সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
চেতনার গহন পলি ও অস্তিত্বের রক্তক্ষরণ: সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর শিল্প-প্রতিবেশের এক নিভৃত পাঠ
বিংশ শতাব্দীর বাংলা কথাসাহিত্যের মানচিত্রের দিকে তাকালে এক অদ্ভুত নির্জন অথচ প্রখর এক আলোকবর্তিকা চোখে পড়ে। সেই আলো কোনো উৎসবে জ্বলে ওঠা রঙিন বাতি নয়, বরং তা পাহাড়ের গুহায় পথ হারানো এক ক্লান্ত পথিকের হাতে ধরা মশাল যার আলোয় চারপাশের অন্ধকার আরও গাঢ় হয়ে ধরা দেয়। এই আলোকবর্তিকার নাম সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ। তিনি কেবল একজন গল্পকার বা ঔপন্যাসিক ছিলেন না; তিনি ছিলেন মানুষের আত্মার এক নিভৃত ব্যবচ্ছেদকারী। যেখানে সাধারণ লেখকেরা গল্পের ভিড়ে মানুষের মুখ খুঁজতেন, ওয়ালীউল্লাহ সেখানে মানুষের অন্তহীন একাকীত্ব আর অস্তিত্বের হাহাকারকে মূর্ত করে তুলেছেন। তাঁর সাহিত্য যেন এক গভীর জলের তলদেশ, যেখানে স্রোত নেই কিন্তু চাপের তীব্রতায় নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে।